Showing posts with label অনলাইনে আয়. Show all posts
Showing posts with label অনলাইনে আয়. Show all posts

চাইনিজ মোবাইল ফোন গুলো সাধারনত সস্তা হয় কেন? চাইনিজ ফোন কি কেনা উচিৎ? দেখুন বিস্তারিত

চাইনিজ মোবাইল ফোন গুলো সাধারনত সস্তা হয় কেন?  চাইনিজ ফোন কি কেনা উচিৎ? দেখুন বিস্তারিত
পনার মনে এই প্রশ্নটি অবশ্যয় এসেছে যে, যেখানে একদিকে স্যামসাং, অ্যাপেল, এইচটিসি ইত্যাদি কোম্পানির ফোন গুলোর দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে সেখানে অন্য দিকে চাইনিজ ফোন নির্ভর কোম্পানি গুলো যেমনঃ সিম্ফনি, ওয়াল্টন, ওয়ান+ ইত্যাদি একই ফিচার সমৃদ্ধ ফোন অর্ধেক বা তার চেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। তো আপনার মনে সন্দেহ আসতেই পারে যে, এ চাইনিজ ফোন হ্যাই কেয়া চীজ? চাইনিজ ফোন গুলো এত সস্তা কেনো হয়? এটা কেনা কি মোটেও ঠিক হবে? এর যন্ত্রপাতি কি আসল হবে না নকল? আমার মনে হয় আপনার মনে এই ধরনের হাজারটা প্রশ্ন টিং টিং করে নোটিফিকেশন দেয়। যাই হোক এখনই আপনার মন এর নোটিফিকেশন বার ওপেন করুন আর সব রিমুভ করে দিন। কেনোনা এই পোস্টটি পড়ার পরে আর কোনো সন্দেহ থাকবে না।

বন্ধুরা দেখুন যেসব বড় কোম্পানি গুলো আছে যেমনঃ স্যামসাং, অ্যাপেল, এইচটিসি, এল জি ইত্যাদি এবং যেসব ছোট কোম্পানি গুলো আছে যেমনঃ সিম্ফনি, ওয়াল্টন, ওয়ান+ ইত্যাদি এদের ভেতর মোট ৪ টি প্রধান বিষয়ের পার্থক্য আছে। সেগুলো হলোঃ
  • গবেষণা এবং উন্নয়ন (Research & Development)
  • বাজারকরণ (Marketing)
  • আয়তন (Size)
  • কৌশল (Strategy)

গবেষণা এবং উন্নয়ন (Research & Development)


তো চলুন সর্ব প্রথম কথা বলি গবেষণা এবং উন্নয়ন বা Research & Development নিয়ে। দেখুন স্যামসাং, অ্যাপেল, এইচটিসি, এল জি ইত্যাদি কোম্পানি গুলো গবেষণা এবং উন্নয়ন ক্ষাতে প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার খরচ করে থাকে। তারা নতুন প্রযুক্তি উদ্ভবন করতে চায় এবং উন্নয়ন করতে চায়। এবং এর জন্য কোটি কোটি ডলার খরচ করে থাকে। আপনি হয়তো ইন্টারনেট এ দেখে থাকবেন যে আইফোন তৈরি করতে মাত্র ৳২০,০০০্‌ খরচ হয়েছে অথবা স্যামসাং এস ৬ তৈরি করতে ৳১৫,০০০ খরচ হয়েছে। আসলে বিষয় গুলো সত্য। কিন্তু সেই খরচ কিন্তু শুধু যন্ত্রপাতির। এখন ঐ ফোনটি বানাতে গিয়ে সেই কোম্পানিটি কত গবেষণা করেছে বা বছর ধরে কতো কষ্ট করেছে সে বিষয়টি কিন্তু আপনি ভেবে দেখেন না। তো গবেষণা ও উন্নয়ন বা Research & Development এর উপর বড় বড় কোম্পানি গুলো যে পরিমান খরচ করে ছোট কোম্পানি গুলো সে খরচ কখনই করে না। বলতে গেলে চাইনিজ ফোন নির্ভর কোম্পানি গুলোর গবেষণা ও উন্নয়ন এর পেছনের খরচ না এর বরাবর।
দেখুন স্যামসাং বা অ্যাপেল সব সময় নতুন প্রযুক্তি সমন্বিত ফোন তৈরি করার চেষ্টা করে। তারা ডিসপ্লে এর উপর খরচ করে, সফটওয়্যার এর উপর খরচ করে, প্রসেসর এর উপর খরচ করে। আসলে এই খরচ গুলো লুকায়িত থাকে। তাই একজন সাধারন ব্যবহারকারির কাছে মনে হতে পারে যে কোম্পানি বড় হওয়ার জন্য বেশি দামে ফোন বিক্রি করছে, অথবা তারা বেশি মুনাফা কামানোর চেষ্টা করছে।
অন্য দিকে ভেবে দেখুন  চাইনিজ ফোন নির্ভর কোম্পানি গুলোর গবেষণা ও উন্নয়ন বলে কিছুই করে না। তারা শুধু বাজার এর প্রাপ্ত যন্ত্রপাতি কেনে নিয়ে যায়, তারপর নিজের ডিজাইন এ বসিয়ে বাজারকরন করে। তাদের শুধু ডিজাইন নিজের হয়, কখনও কখনও আবার তাও হয় না নিজের। এখন আপনি নিজেই চিন্তা করুন, চাইনিজ ফোন গুলো কেনো এত সস্তা হয়?

বাজারকরণ (Marketing)

এখন চলুন কথা বলি বাজারকরণ বা Marketing নিয়ে। আপনি অবশ্যয় খেয়াল করে থাকবেন যে বড় কোম্পানি গুলো তাদের ফোন বাজারে ছাড়ার পর তারা কি পরিমানে বাজারকরণ বা Marketing করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেল, আন্তর্জাতিক পত্র পত্রিকা, ইন্টারনেট ইত্যাদিতে বিজ্ঞাপন এ ভরিয়ে দেয় তারা। কিন্তু চাইনিজ ফোন নির্ভর কোম্পানি গুলো এই বিষয়টি কখনই করে না। তাদের বিজ্ঞাপন আপনি কখনই আন্তর্জাতিক ভাবে দেখতে পাবেন না। তারা খুব বেশি হলে তাদের নিজের ওয়েবসাইট কিংবা স্থানীয় পত্র পত্রিকাই বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে।
বড় কোম্পানি গুলো যেমনঃ স্যামসাং বা অ্যাপেল বাজারকরণ এর জন্য যে পরিমান খরচ করে থাকে তা প্রায় তাদের ফোন তৈরি করার দাম এর প্রায় ২০%-৩০% এর সমান হয়ে থাকে। যেখানে চাইনিজ ফোন নির্ভর কোম্পানি গুলো সেই খরচ দিয়ে তাদের ফোন তৈরি করে থাকে।

আকার ও আয়তন (Size)

দেখুন Marketing এর পরে যে বিষয়টি তৃতীয় নাম্বার এ আসে তা হলো সাইজ। যদি অ্যাপেল এর কথা বলি তবে এর যে প্রধান কর্মকর্তা তার নাম হলো টিম কুক। এখন অ্যাপেল টিম কুক এর পেছনে এক বছরে যতো টাকা খরচ করে থাকে, তা সিম্ফনি বা ওয়াল্টন এর মতো কোম্পানি গুলোর বাৎসরিক লেনদেন এর সমান। অ্যাপেল বা স্যামসাং, এই কোম্পানি গুলো এত বৃহৎ আকারের যে এদের সারা দুনিয়াতে অফিস আছে। এবং প্রচুর কর্মকর্তাগন তাদের সাথে কাজ করেন। তার ফলে এই সকল বৃহৎ কোম্পানি সমূহর প্রচুর খরচ হয়ে থাকে।
চাইনিজ ফোন নির্ভর কোম্পানি গুলোর লেনদেন এতো বৃহৎ আকারে হয়ে থাকে না। তাছাড়া তাদের অনেক বড় বড় অফিস বা কারখানা ও থাকে না। সেখানে তারা তাদের ফোন গুলোকে অনেক সস্তা দাম এ বিক্রি করতে পারে। যেখানে অ্যাপেল বা স্যামসাং যদি সস্তা দাম এ বিক্রি করতে চায়, তবে মুনাফা তো অনেক পরের কথা তাদের অফিস ই চলবে না হয়তো ঠিক মতো।

কৌশল (Strategy)


চতুর্থ এবং শেষ বিষয়টি হলো কৌশল বা Strategy। দেখুন অ্যাপেল এর কথা বলুন কিংবা স্যামসাং, এরা একদম প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি। আজ যদি অ্যাপেল বা স্যামসাং তাদের ফোন এর দাম ৩ গুন ও বাড়িয়ে দেয় তবে তাতে কিচ্ছু যায় আসবে না। মানুষ তাদের ফোন কিনবে এবং ব্যবহার করবে। কেনোনা তারা মানুষের ভরসা জিতে নিয়েছে। অন্য দিকে যদি চাইনিজ ফোন কোম্পানির কথা বলি, তবে তারা হয়তো বাজারে একেবারেই নতুন বা তারা চাচ্ছেন যে তাদের ফোন মানুষ ব্যবহার করে দেখুক। বা তারা বাজারে তাদের এক ভিন্ন পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য সস্তা দামে ফোন বিক্রি করে থাকে।
এখন মনে করুন লাভা কিংবা সিম্ফনি যদি ৫০ হাজার বা ৬০ হাজার টাকার ফোন তৈরি করে বিক্রি করতে চায় তবে আপনি কি তা কিনবেন? কেনার আগে প্রথমেই বলবেন, “হুমহ…… ৫০ হাজার টাকা দিয়ে খেয়ে কাজ নেই সিম্ফনি কিনবো, স্যামসাং মরে গেছে নাকি?” আচ্ছা মেনে নিলাম যে সিম্ফনি আমাদের দেশে অনেক বছর ধরে আছে, অনেক সার্ভিস সেন্টার আছে তাদের। তারপর ও ভাববেন, ফোনটা ভালো হবে তো? ধুর, স্যামসাং নিলেই বুঝি ভালো করবো। তো আপনার এই সব মনের কথা ভেবেই চাইনিজ ফোন কোম্পানিরা সস্তা দামে ফোন বিক্রি করে। যেন মনের ভেতর কোনো এঁরর নোটিফিকেশন দেওয়ার আগেই আপনি ফোনটি কেনে ফেলেন।
অন্য দিকে বড় বড় মোবাইল ফোন নির্মাতা কোম্পানিরা এই কৌশল অবলম্বন করে না। কারন তারা ইতিমধ্যে বড় ব্র্যান্ড এবং মানুষ তাদের বিশ্বাস করে।

চাইনিজ ফোন গুলোর গুনগত মানঃ

এতক্ষণ এ আপনি নিশ্চয় বুঝে গেছেন যে চাইনিজ ফোন এর দামের পার্থক্য কেনো হয়। এখন আপনার মনে যেটি প্রশ্ন থাকে তা হলো এর গুনগত মান নিয়ে। এই বিষয়টি নিয়ে অনেক সহজ করে বোঝাতে চাই আপনাকে। দেখুন চাইনিজ ফোন গুলোর দাম কম হলেও গুনগত মান এর দিক থেকে কোনো পার্থক্য থাকে না। আপনি এইচটিসি বা স্যামসাং এর কথা বলুন আর সিম্ফনি বা ওয়াল্টন এর, এরা কিন্তু কেউই OEM নয়। মানে Original equipment manufacturer (প্রকৃত যন্ত্রাংশ তৈরিকারী) নয়। যেমন ধরুন এই ফোন গুলোতে যে মেমোরি লাগানো থাকে তা হয় স্যামসাং বা অন্য কোম্পানির, যে প্রসেসর থাকে তা হয় মিডিয়াটেক বা কোয়ালকম এর, অথবা যে ক্যামেরা থাকে তা হবে সনি বা অন্য কোনো কোম্পানির। তো এই সকল ফোন কোম্পানি গুলোয় একই স্থান থেকে যন্ত্রাংশ কেনে। এমনটা কিন্তু নয় যে স্যামসাং বা এইচটিসি দামী যন্ত্র কেনে আর সিম্ফনি বা ওয়াল্টন কম দামী যন্ত্রাংশ কেনে। তো বাস্তবিক দিক থেকে দেখতে গেলে গুনগত এর দিক থেকে তেমন কোনো পার্থক্য দেখতে পাওয়া যায় না। এটা কখনোয় ভাববেন না যে চাইনিজ ফোন এর গুনগত মান খারাপ হবে। আপনি অনায়াসে চাইনিজ ফোন কিনতে পারেন এবং ব্যবহার করতে পারেন। তবে চাইনিজ ফোন এ কিছু কিছু অসুবিধা হতে পারে। তা নিয়ে নিচে আলোচনা করছি।

চাইনিজ ফোন এর অসুবিধা সমূহঃ


অনেক সময় দেখা যায় আপনি যে চাইনিজ ফোন টি কিনেছেন তার প্রস্তুতকারি কোম্পানি একেবারেই নতুন হওয়াতে কেনার পর সার্ভিস পেতে আপনার অসুবিধা হতে পারে। সার্ভিস নিতে আপনাকে বড় কোনো শহর এ যেতে হতে পারে। আরেকটি সমস্যা হতে পারে তা হলো অনেক সময় ফোন এর অপারেটিং সিস্টেম এবং হার্ডওয়্যার সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। মনে করুন আপনি ৬-৭ হাজার টাকা দিয়ে ১ জিবি RAM এর একটি ফোন কিনলেন যেটা Android ললিপপ অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে চলে। এখন ১ জিবি RAM হওয়ার কারনে আপনার ফোনটি ল্যাগ করতে পারে। তাছাড়া GPU (Graphics processing unit) ভালো না হলে গেম খেলে মজা পাবেন না ইত্যাদি। তাছাড়া অন্য কোনো সমস্যা নাই। আপনি চাইনিজ ফোন কিনেও ভালো ভাবে ব্যবহার করতে পারবেন।

শেষ কথাঃ

তো আশা করি এতখনে বুঝে গেছেন যে চাইনিজ ফোন গুলো কেনো এত সস্তা হয় এবং চাইনিজ ফোন আপনার কেনা উচিৎ কি না। তবুও আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে বা কোনো মতামত থাকে এই বিষয়টির উপরে তবে নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। আর নতুন নতুন প্রযুক্তি টিপস এবং খবর পেতে নিয়মিত ভিসিট করতে থাকুন। আমি প্রতিদিন আপনাদের সামনে নতুন নতুন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আসি তাই নিয়মিত ভিসিট করার অবশ্যয় মূল্য রাখে। এই পোস্ট টি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তবে নিচের শেয়ার বাটনটি ক্লিক করে করে ধংস করে দিতে ভুলবেন না।
বিস্তারিত পড়ুন

অনলাইনে আয় করার ৫ টি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য উপায়, বিস্তারিত জানুন

অনলাইনে আয় করার ৫ টি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য উপায়, বিস্তারিত জানুন
নলাইনে আয় করা সম্ভব এটি হয়তো আপনারা সকলেই জানেন। কিন্তু আপনাদের ভেতর অনেক পাঠকগণদের এটা জানা নেই যে কি কি উপায়ে অনলাইনে আয় করা সম্ভব। আজকের এই পোস্ট এ আমি অনলাইনে নিশ্চিত আয় করতে কিছু নির্ভরযোগ্য উপায় নিয়ে আলোচনা করতে চলেছি। আজ আপনারা জানতে পারবেন যে, কিভাবে আপনিও অনলাইন থেকে প্রচুর পরিমানে আয় করতে পারবেন।
বন্ধুরা, আলোচনা শুরু করার আগে আমি আপনাদের কিছু বিষয় জানিয়ে দিতে চাই। আপনি অনলাইনে আয় করুন আর অফলাইনে আয় করুন, এমন কোনো টেকনিক এখনো আবিষ্কার হয়নি যে আপনি রাতারাতি বড়লোক হয়ে যাবেন। আপনি ঘুম থেকে উঠলেন আর কোটিপতি হয়ে গেলেন। বন্ধুরা এমনটা শুধু লটারির ক্ষেত্রে হতে পারে। তাছাড়া আপনি যে কোনো আয়ের কথাই বলুন না কেনো তা শুধু মাত্র পরিশ্রমেই হতে পারে। আপনি যতো বেশি শ্রম দেবেন ততো বেশি আয় করতে পারবেন। তাই সবচেয়ে প্রথমে মাথা থেকে এই কথা ঝেড়ে ফেলুন যে আজ আপনি অনলাইনে আয় করতে শুরু করলেন আর ১০ দিনের ভেতর লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা চলে আসলো। হাঁ, একদিন এমন আসবে যে আপনি অনলাইন থেকে লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা উপার্জন করতে পারবেন। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন প্রচুর পরিশ্রম, ফ্রেস আইডিয়া, সময় এবং দক্ষতা।


তাই এক কথায় বলতে গেলে বলবো যে, আপনি যদি পরিশ্রম করতে পারেন, অনেক সময় দিতে পারেন এবং ধর্য ধারন করতে পারেন তবেই অনলাইনে আয় করার কথা চিন্তা করবেন। তা না হলে শুধু আপনার সময় নষ্ট হতে পারে।

অনলাইনে আয় করার নির্ভরযোগ্য উপায় সমূহ

অনলাইনে আয় করুন ইউটিউব থেকে


ইউটিউব থেকে খুব ভালো পরিমানে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। অনলাইনে আয় করার জন্য ইউটিউব দিনের পর দিন অনেক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। অনেক মানুষ ইউটিউব থেকে অনেক পরিমানে অর্থ উপার্জন করছে, এবং আপনিও চাইলে করতে পারেন। আপনার কাছে যদি একটি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল থাকে এবং তাতে যদি হাজার হাজার সাবস্ক্রাইবার থাকে এবং আপনার বানানো ভিডিওতে যদি অনেক ভালো ভিউ হয়ে থাকে তবে ইউটিউব থেকে আপনি ভালো পরিমানে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। এখন ইউটিউব কি, এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি না। কেনোনা এই বিষয় নিয়ে এমন কাওকে হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না যে তিনি ইউটিউব চেনেন না।
আপনি যখন ইউটিউবে কোনো ভিডিও আপলোড করবেন তখন আপনার ভিডিওটির সাথে অ্যাড দেখানো হবে। এই অ্যাড দেখায় গুগল এর আরেকটি সেবা গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে। ইউটিউব থেকে আপনাকে অ্যাড এর জন্য গুগল অ্যাডসেন্স এর কাছে আবেদন করতে হবে। তবে চিন্তা করবেন না। আপনার দরখাস্তটি খুব তাড়াতাড়ি মঞ্জুর হয়ে যাবে, এবং আপনার আপলোড করা ভিডিওটিতে অ্যাড দেখাতে শুরু হয়ে যাবে। গুগল অ্যাডসেন্স এ অনেক অ্যাড প্রদানকারী কোম্পানি আছে। যারা গুগলকে অর্থ প্রদান করে থাকে। গুগল সেই অর্থ থেকে কিছু শতাংশ আপনাকে প্রদান করবে এবং বাকিটা গুগল নিজের কাছে রেখে দেয়।

অনলাইনে আয় করার জন্য ইউটিউব খুব ভালো একটি মাধ্যম। কিন্তু এটি তখনই আপনার জন্য ভালো হবে যখন আপনার কাছে কোনো বড় চ্যানেল থাকবে। যেখানে অনেক সাবস্ক্রাইবার থাকবে এবং আপনার তৈরি করা ভিডিও অনেকে পছন্দ করবে। এখন বড় চ্যানেল এবং অনেক সাবস্ক্রাইবার তৈরি করতে আপনাকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে, অনেক সময় ব্যয় করতে হবে এবং আপনার কাজে আপনাকে দক্ষ হতে হবে। আপনি যদি অনেক ভালো ভিডিও তৈরি করতে পারেন, আপনার আইডিয়া গোটা বিশ্বকে দেখাতে চান, যদি ভালো উপস্থাপনা করতে এবং ভিডিও এডিট করতে পারেন তবে ইউটিউব আপনার জন্য অর্থ উপার্জনের একটি ভালো মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। আপনি যে কোনো ধরনের ভিডিও তৈরি করতে পারেন। সেটা কোনো টিউটোরিয়াল হোক বা টেকনোলজি বিষয়ে হোক কিংবা রান্নার অনুষ্ঠান হোক। আপনি যেকোনো ধরনের ভিডিও বানান যা আপনি বানাতে পছন্দ করবেন। দুনিয়াকে দেখান সেই ভিডিও গুলো। যদি ভিডিও গুলো ভালো হয়ে থাকে তবে মানুষ তা পছন্দ করবে এবং আপনার চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করবে। অনেকে আপনার ভিডিওটি দেখবে এবং আপনি ধিরেধিরে অনেক উপার্জন করতে পারবেন।

YouTube থেকে আয় এবং Channel তৈরী ও Google AdSense আবেদনের বাংলা ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখুন 

অনলাইনে আয় করুন আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ থেকে

অনলাইনে আয় করার আরেকটি নির্ভরযোগ্য স্থান হলো ওয়েবসাইট বা ব্লগ। আপনার যদি একটি ওয়েবসাইট কিংবা একটি ব্লগ থাকে, এবং আপনার ওয়েবসাইট কিংবা ব্লগে যদি যথেষ্ট পরিমানে ভিসিটর থাকে তবে আপনি অনেক অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। দেখুন ওয়েবসাইট বা ব্লগ থাকা এবং তার সাথে যথেষ্ট পরিমানে ভিসিটর থাকলে বহুত পন্থা আছে আয় করার জন্য। তবে আয় এর মাধ্যম হিসেবে আমার প্রথম পছন্দ গুগল অ্যাডসেন্স। গুগল অ্যাডসেন্স এর কথা তো আগেই বললাম। এটি একটি অ্যাড পাবলিশিং কোম্পানি। আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইট এর কনটেন্ট অ্যাডসেন্স এর সাথে মনিটর করাতে পারবেন। অ্যাড থেকে উপার্জিত অর্থের এক শতাংশ গুগল আপনার সাথে শেয়ার করবে। কিন্তু আপনার প্রয়োজন পড়বে অসাধারন কিছু কনটেন্ট এর। আপনার কনটেন্ট যতো বেশি মানুষ পছন্দ করবে এবং ভিউ হবে আপনি অ্যাড থেকে ততো বেশি উপার্জন করতে পারবেন।
গুগল অ্যাডসেন্স ছাড়াও আরো অনেক অ্যাড পাবলিশিং কোম্পানি আছে। যারা অনেক ভালো রেট দিয়ে থাকে। আপনি চাইলে অন্যান্য অ্যাড পাবলিশিং কোম্পানির অ্যাড ব্যবহার করেও ভালো উপার্জন করতে পারেন। আপনার ওয়েবসাইটে যেকোনো প্রোডাক্ট প্রচার করেও আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। তাছাড়াও ওয়েবসাইট বা ব্লগ থেকে অর্থ উপার্জন এর আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। নিচে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
তাই দেরি না করে আপনার নিজের একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি করে ফেলুন। তারপর দুনিয়ার সাথে শেয়ার করুন আপনার পোস্ট বা কনটেন্ট গুলো। আজকাল মাত্র এক হাজার টাকা দিয়েও ওয়েবসাইট বানানো যায়। খুব বেশি হলে ২-৩ হাজার টাকা খরচ পড়তে পারে। আপনি যদি নিজে বানাতে পারেন তবে বানিয়ে ফেলতে পারেন অথবা কারো কাছ থেকে বনিয়ে নিতে পারেন। আপনি চাইলে গুগল এর ব্লগার সেবাটি ব্যবহার করতে পারেন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রী। ব্লগার দিয়ে ব্লগ তৈরি করে ব্লগিং করতে থাকুন, অনেক ভালো ভালো অনন্য কনটেন্ট তৈরি করুন। তারপর সেখানেও আপনি গুগল অ্যাডসেন্স লিঙ্ক করতে পারবেন এবং অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

অনলাইনে আয় করুন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে

অনলাইনে যতো শপিং সাইট আছে যেমন অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট বা স্নাপডিল এদের সকলের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সুবিধা থাকে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো এমন একটি ব্যাবস্থা যেখানে আপনি কোনো প্রোডাক্ট কেনার জন্য আপনার বন্ধু বা পরিবারের কেউ বা আপনার সাইট এর ভিসিটরদের আমন্ত্রন জানাতে পারেন। তারা যদি আমন্ত্রন গ্রহন করে আপনার রেফার করা প্রোডাক্ট টি ক্রয় করেন তবে সেখান থেকে আপনি কিছু অংশ উপার্জন করতে পারবেন।
তো এটি নিঃসন্দেহে অনলাইনে উপার্জন করার ভালো একটি উপায়। আপনি অ্যামাজন এর একজন অ্যাফিলিয়েট মেম্বার হয়ে যেতে পারেন। তারপর আপনি ইচ্ছা মতো প্রোডাক্ট পছন্দ করতে পারবেন, সেখান থেকে আপনাকে লিঙ্ক দেওয়া হবে। আপনার সেই লিঙ্কটি আপনি আপনার ইউটিউব চ্যানেল বা ওয়েবসাইট বা ব্লগ বা ফেসবুক এ শেয়ার করতে পারেন। সেই লিঙ্কটি ক্লিক করে যদি কোনো ক্রেতা সেই প্রোডাক্ট টি ক্রয় করেন তবে আপনি সেখান থেকে তার কমিসন পেয়ে যাবেন।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনি বই, মোবাইল ফোন, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী থেকে শুরু করে প্রায় সব কিছুই রেফার করতে পারবেন। আপনার কাছে যদি পাবলিসিটি করার জন্য ভালো কোনো প্লাটফরম থাকে, সেটা আপনার ইউটিউব চ্যানেল হোক বা আপনার ওয়েবসাইট হোক কিংবা আপনার ফেসবুক পেজ হোক। তাহলে সেই প্লাটফরম এর মাধ্যমে আপনার অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক শেয়ার করে এবং প্রোডাক্ট বিক্রি করিয়ে আপনি খুব ভালো অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

অনলাইনে আয় করুন আপওয়ার্ক বা অন্যান্য ফ্রিলান্সিং মার্কেটপ্লেস থেকে

বাংলাদেশের মানুষদের কাছে জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসের নাম, আপওয়ার্ক। ওয়েবঠিকানা: upwork.com ।এখানে বায়াররা বিভিন্ন কাজ নিয়ে জব পোস্ট করে। কাজ করতে আগ্রহী ফ্রিল্যান্সাররা সেই কাজ পাওয়ার জন্য বিড করে। এসব বিড দেখে বায়াররা তাদের কাজের জন্য যোগ্য লোককে বাছাই করে। আজ আপওয়ার্ক নিয়ে বিস্তারিত গাইডলাইন দেয়ার চেষ্টা করেছি। আপওয়ার্কে একবার কাজ পেলে পিছনে ফিরে না তাকালেও চলে। আপওয়ার্কে একজন বায়ারের কাছ থেকে ভালো ফিডব্যাক পেলে অন্য বায়াররা ঐ সেলারকে খুব সহজেই বিশ্বাস ও কাজের যোগ্য মনে করে।
তাছাড়াও অনলাইনে অনেক নির্ভরযোগ্য ফ্রিলান্সিং মার্কেটপ্লেস আছে। যেমনঃ ফ্রীলান্সার ইত্যাদি। আপনি সেই ফ্রিলান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে অ্যাকাউন্ট খুলে একটি প্রোফাইল বানাতে পারেন। তারপর আপনাকে মার্কেটপ্লেস এ প্রাপ্ত হাজার হাজার জব এর ভেতর থেকে আপনার পছন্দের জব বা আপনি যে কাজ গুলো করতে পারবেন তার উপর আবেদন করতে হবে। জব প্রদানকারী আপনার প্রোফাইল যাচাই করে আপনাকে ভালো লাগলে সেই জবটি দিয়ে দিতে পারেন। ফ্রিলান্সিং মার্কেটপ্লেস এ আপনি ঘণ্টা চুক্তি এবং ফিক্সড প্রাইস এর জব করতে পারবেন। এবং সেখান থেকে অনেক ভালো পরিমানে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।

অনলাইনে আয় করুন লিঙ্ক সর্ট করে

আমি এই পোস্ট এ মাত্র ৫ টি নির্ভরযোগ্য উপায় বলেছি অনলাইনে আয় করার জন্য। কিন্তু এখনো অনেক উপায় আছে যার মাধ্যমে আপনি সন্তুষ্টজনক আয় করতে পারবেন। যাই হোক এখন কথা বলি লিঙ্ক সর্ট করে অনলাইনে আয় করার ব্যাপারে। বন্ধুরা আপনারা হয়তো লক্ষ্য করে দেখবেন যে বিভিন্ন যায়গায় ইউজার রা লিঙ্ক সর্ট করে পোস্ট করে। লিঙ্ক সর্ট করার মাধ্যমে আপনি বড় বড় ওয়েবসাইট লিঙ্ক কে ছোট করতে পারবেন। তো এই লিঙ্ক সর্ট করার জন্য অনেক ওয়েবসাইট এই সেবা প্রদান করে থাকে। তাদের মধ্যে অন্যতম bit.ly এবং goo.gl। কিন্তু এগুলো ব্যবহার করে আপনি উপার্জন করতে পারবেন না। ইন্টারনেট এ আরো কিছু ওয়েবসাইট আছে যেমন adf.ly ইত্যাদি, এরা আপনাকে লিঙ্ক সর্ট করার জন্য টাকা প্রদান করবে।
যখন আপনি আপনার বড় লিঙ্ক গুলোকে এদের মাধ্যমে সর্ট করে বিভিন্ন যায়গায় শেয়ার করবেন তখন যদি কেও সে লিঙ্ক এ প্রবেশ করে তবে সে কাঙ্ক্ষিত লিঙ্ক এ যাবার আগে একটি অ্যাড পেজ দেখতে পাবে। এবং অ্যাড পেজ স্কিপ করে কাঙ্ক্ষিত লিঙ্ক এ যেতে পারবে। আর এর জন্য adf.ly আপনাকে অর্থ প্রদান করবে।
আপনি যদি ফেসবুক এ কিছু পোস্ট করেন অথবা আপনার ওয়েবসাইট এ কিছু পোস্ট করেন তবে সেখানে লিঙ্ক সর্ট করে শেয়ার করতে পারেন। সে লিঙ্ক এ যতো বেশি ভিসিটর প্রবেশ করবেন আপনি ততো বেশি উপার্জন করতে পারবেন। তাছাড়াও অনলাইন এ অনেক ছোট ছোট কাজ আছে যার মাধ্যমে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। এ নিয়ে একটি বিস্তারিত পোস্ট খুব তাড়াতাড়ি করে ফেলবো আশা করছি।
শুরু করতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন। 

শেষ কথা

আমি আজ অনলাইনে আয় করার জন্য যে ৫ টি নির্ভরযোগ্য উপায় নিয়ে আলোচনা করলাম আশা করি সকলের উপকারে আসবে। আপনি আপনার কাজ অনুসারে এবং পরিশ্রম অনুসারে এই উপায়গুলোর মাধ্যমে অনেক ভালো আয় করতে পারবেন। আগেই বলেছি বাস্তব জীবন হোক আর অনলাইন হোক, অর্থ উপার্জন করা কোথাওই সহজ না। এছাড়াও অনলাইন থেকে আয় করার অনেক মাধ্যম আছে, কিন্তু সেগুলোর কিছু কিছু নির্ভরযোগ্য আবার কিছু কিছু কবে চলে যাবে বলা যায় না। তাই আশা করি অনালিন এ কাজ করার ইচ্ছা থাকলে উপরিউক্ত কোনো নির্ভরযোগ্য বেঁছে নেবেন। আজকের পোস্টটি কেমন লাগলো জানাবেন। তার পাশাপাশি পোস্ট টি শেয়ার করতে ভুলবেন না। আমি প্রতিদিনই বিভিন্ন বিষয়ের উপর পোস্ট করে থাকি তাই এই সাইট টি নিয়মিত ভিসিট করবেন।
বিস্তারিত পড়ুন